ডেস্ক রিপোর্ট:কিশোরগঞ্জে নাট্যকার মো: আজিজুর রহমানের স্মরণে ভোরের আলো সাহিত্য আসর এর ১২৮১তম সভা ও ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত।
গতকাল ১২ডিসেম্বর/'২৫ (শুক্রবার) সকাল ৯টায় ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সভাপতি কবি সাহিত্যিক,গীতিকার ও ইসলামী দর্শনের লেখক মো: আজিজুর রহমানের স্মরণে ১২৮১তম সভা ও ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানা মার্কেটস্থ মডার্ণ ডেন্টালে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে দুই পর্বে যথাক্রমে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যাংকার বিমল চন্দ্র ভৌমিক ও ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বিআরডিবির সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নিজাম উদ্দিন।
অনুষ্ঠান সূচনালগ্নে আসরের সহসভাপতি বিমল চন্দ্র ভৌমিক প্রয়াত আজিজুর রহমানের নানা গুনাবলী তুলে ধরেন ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করার নির্দেশ প্রদান করেন।
২য় পর্বের সভাপতি কবি মো: নিজাম উদ্দিন বলেন:" হ্যাঁ, তিনি ভোরের আলোর প্রাণ ছিলেন।" তিনি আরো বলেনঃ আজিজুর রহমান আমার বিআরডিবির অফিসে হিসাব-রক্ষণ অফিসার হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু তিনি আমাদের আগেই আল্লাহপাকের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।আমি ওনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।"
এ আসরের প্রতিষ্ঠাতা মো: রেজাউল হাবিব রেজার সঞ্চালনায় স্মরণসভাটি আড়াইঘন্টাব্যাপী চলমান থাকে।
প্রয়াত আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ১০ডিসেম্বর তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন। এই দিনেই ওনাকে টাঙ্গাইলে নামাজের জানাযা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি তিনবছর যাবত কিডনীজনিত সমস্যায় ভূগতে ছিলেন।
স্মৃতিচারণ সভায় ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ভুঁইয়া প্রয়াতের ওপর পারিবারিক বিষয়াদী আংশিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে নিষ্ঠার সাথে বিআরডিবির হিসাব রক্ষণের দায়িত্ব পালনে কর্তব্যপরায়ন ছিলেন বলে তিনি বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।
উপস্থিতগণের মধ্যে ভোরের আলোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও উত্তরণ সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মো: শফিউল আলম বলেন: "মো: আজিজুর রহমান ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রাণ ছিলেন। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমত ওনার পাশে থাকতে। আমি ওনার আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পারিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।"

ভোরের আলোর পুরাতন সদস্য মাও: মাহদী হাসান বলেনঃ "তিনি আমাকে একটি সঙ্গীত দিছিলেন গাওয়ার জন্য আমি তা গেয়েছি। আমি আজিজুর রহমান স্যারকে খুব আন্তরিকভাবে সংগঠনের চিন্তা করতে দেখেছি। তিনি আমাকে বলতেন, আমি যেন নিয়মিত অনুষ্ঠানে আসি।"
মাও: মাহদী আরো বলেন: " আমরা ক্ষনস্থায়ী জিন্দেগীতে পৃথিবীতে এসেছি, এখান থেকে আবার চলে যেতে হবে। এ জন্য আমরা যেন পরকালের সামানা প্রস্তুত করে রাখি। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমিন।"
ভোরের আলো সাহিত্য আসরের উপদেষ্টা ও অনুষ্ঠানের স্থানদাতা মো: হিরা মিয়া বলেন: " আজিজুর রহমান ভাই সবচে বেশি সময় দিয়েছেন আমার সাথে। দুপুর বা বিকেলের দিকে শহরে এলেই আমার সাথে সময় দিতেন। ওনার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো শেয়ার করতেন।
ওনাকে দেখেছি ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রতিটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করতেন। সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানকে সচল করার জন্য পরিকল্পনা তথা পুরস্কার দেয়ার কথা ভাবতেন।" তিনি আজিজুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করে আলোচনার ইতি টানেন।
ভোরের আলোর প্রয়াত এই আজিজুর রহমানকে নিয়ে আবেগতাড়িতভাবে কথা বলেনঃ মো: কবির হোসেন সরকার। তিনি মৃত্যু প্রস্তুতি নিতে অনেক কথাই বলেছেন।
ভোরের আলোর আইন ও শৃঙ্খলা বিষয়ক সম্পাদক হিরন আকন্দ আজিজুর রহমানের মৃত্যুর আগে অনেক কথার স্মৃতিচারণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় আজিজুর রহমানকে দেখতে গিয়ে অনেক সময় ক্ষেপণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। স্মরণসভায় হাজির হন অসুস্থ আকলিমা ও মৌসুমী আক্তারও। আকলিমা তার ইউটেরাসের জটিল সমস্যার কথা আলোচনা করেন এবং পাশাপাশি আজিজ ভাইয়ের সহজ-সরল বাচনভঙ্গির কথা উল্লেখ করেন। আকলিমা তার কথায় আপাদমস্তক ভোরের আলো নিয়েই পড়ে থাকতেন আজিজ ভাই। তার এমন "বিষয়টি সচরাচর দেখতেন।"
দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে চুপচাপ হয়ে আলোচনাগুলো শুনতে ছিলেন উপস্থিত শিল্পী এস.কে.রাজু। ততক্ষণে তিনি নিরবতা ভেঙ্গে অসুস্থদের নিয়ে কথা বলার তাগিদ দেন। ওনার কথামত আলোচনার শুরুর আগে সভা হতে ওনাকে অনুরোধ করা হয় আজিজ ভাইয়ের স্মরণে একটি হামদ-নাত গাওয়ার জন্য।
এ অনুরোধ রক্ষায় তিনি গেয়ে ওঠলেন--"আল্লাহ তোমার দরবারে যে তুলেছি দুই হাত
দাও আমায় নাজাত, দাও আমায় নাজাত।" নিরবতা ভাঙ্গলেন ভোরের আলোর পুরাতন সদস্য মাস্টার মো: আকরাম হোসাইনও। তিনিও অতীত স্মৃতিতে বক্তব্য রাখেন এবং প্রয়াত আজিজুর রহমান ভাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।তাছাড়া এতে নতুনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফুটবল প্লেয়ার রাহিমা আক্তার।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী মো: আলমগীর হোসেন, ঈশাখাঁ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক আফসার আশরাফী, বিশিষ্ট কবি ও পুঁথিকার মোখলেসুর রহমান আকন্দ, ভোরের আলো সাহিত্য আসরের মহিলা অংশের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা মাহবুবা বেগ মৌসুমী প্রমুখ।
স্মৃতিচারন সভার শেষ সময় এসে সমাপ্তি ভাষন দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নিজাম উদ্দিন। তিনি নিজেও অসুস্থ। তারপরও তিনি বলেন: " আমরা ভোরের আলো সাহিত্য আসরের ৬০% লোক অসুস্থ। কারণ অনেকে বার্ধক্য জনিত কারণ ও শারীরিক ঘাটতিজনিত সমস্যায় ভূগছে। ভোরের আলো সাহিত্য আসরকে টিকিয়ে রাখতে হলে সবার স্বাস্থ্য ভালো রাখা দরকার। তিনি আরও বলেন: " মো: আজিজুর রহমান আরো ১০ বছর বেঁচে থাকলে সাহিত্য আসরের অনেক উন্নতি করতে পারতেন। তার বয়স খুব একটা বেশি হয়নি। ৬৪ বছর বয়সে গত বছর ১০ডিসেম্বর না ফেরার দেশে তিনি চলে যান। আমি তার জান্নাত কামনা করি।" এরূপ আলোচনার পর তিনি মাও: মাহদীকে প্রয়াত আজিজুর রহমানের জন্য দু'আ করতে বলেন। মাও: মাহদীর দু'আর মাধ্যমে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের ১২৮১ তম সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।