প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৬, ৬:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় আছেন খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ির প্রার্থী মাওলানা কাসেমী

ভোরেরআলো বিডিডেস্কঃ
খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ির প্রতীক নিয়ে দাঁড়ানো মাওলানা কাসেমী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে গুজবের প্রতিবাদের বিকেল ৩টায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা কাসেমী সংবাদ সম্মেলন করেছে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাণথানাস্থ দলীয় কার্যালয়ে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬২ কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিসের মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী নির্বাচন থেকে সড়ে যাননি বরং সক্রিয় রয়েছেন বলে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান দিয়েছেন। ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরানথানাস্থ দলের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এবং কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।তিনি বলেন"আমি নির্বাচন থেকে সড়ে যাইনি। একটি মহল আমার জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন যা আদৌ সত্য নয়।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, খেলাফত মজলিসের জেলা সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ্, সহসাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ, প্রচার সম্পাদক মাসউদুল হাসান, বায়তুল মাল সম্পাদক অলিউর রহমান,সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাও শফিকুল ইসলাম খান, শহর শাখার সহ সভাপতি আব্দুল হাফিজ,জেলার সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আহমদ ফারুক, শ্রমিক মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা শরীফুল ইসলাম ফরহাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী গ্রামে। যদিও তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে ঢাকায়। দাওয়াতি কার্যক্রম, শিক্ষা কার্যক্রম এবং মিডিয়া কেন্দ্রীক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। তবুও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই গভীর ও আবেগপূর্ণ। যশোদল ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতে, এলাকার সন্তান হিসেবে তাঁকে দলমত নির্বিশেষ জাতীয় সংসদে পাঠাতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি কাজ করছে তা হচ্ছে, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর বড় ছেলে আবু হানিফা নুমান ২০১৩ সালে ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক গুমের শিকার হন। আজও তার খোঁজ মেলেনি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর ছেলেকে পাওয়ার আকুতি নিয়ে দিনের পর দিন আইনা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রিয় সন্তানের মুখটি দেখতে পাননি। এছাড়াও তিনি ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে সামনের সারীতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ৫ই মে শাপলা চত্বরে বিভীষিকাময় রাতে প্রচন্ড নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েও সেখানে ফজর পর্যন্ত অবস্থান করা এবং ২০১৪ এর ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ এর ২০ মে পর্যন্ত কারা বরণ করা ও রাষ্ট্রীয় জুলুমের শিকার হয়ে বহুবার কারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝে কাজ করছে। উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে আলেম-উলামাদের প্রতিনিধিত্বে সমৃদ্ধ। এই আসন থেকে এক সময় মাওলানা আতাহার আলী (রহ.) এবং মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ.) জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আবারও একজন শিক্ষিত, গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল আলেমকে সংসদে দেখতে চান ধর্মপ্রাণ ও সচেতন ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যদি বাস্তবভিত্তিক ঐক্য ও সমঝোতা গড়ে ওঠে, তবে মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী কিশোরগঞ্জ-১ আসনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এবং দ্বীনি ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে একটি সম্ভাবনাময় ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।
Copyright © 2026 Vorer Alo BD. All rights reserved.