প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২৩, ২০২৬, ৪:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২২, ২০২৬, ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
নিরবে-নিভৃতে চলে যাওয়া ভোরের আলো সাহিত্য আসরের ১৩০০ তম সভা। এক অনন্য আবেগ ও অনুভূতির পরম ক্ষণ !!

রেজাউল হাবিব রেজা ঃ
নিরবে-নিভৃতে চলে যাওয়া ভোরের আলো সাহিত্য আসরের ১৩০০ তম সভাটি স্মৃতিময় হয়ে থাকবে।
ভোরের আলো সাহিত্য আসর নামে কিশোরগঞ্জে ২০০৩সাল থেকে নিয়মিত এক সাহিত্যচর্চা করে আসছে। এতে শুধু ছড়া,কবিতা,চুটকী আর গানই হয়না,ভাবা হয় এসব সাহিত্য কর্মের ভাবার্থ নিয়েও। সাহিত্যে যদি প্রতিবাদের কিছু থাকে তাহলে এ সাহিত্য আসর ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে যায় মানববন্ধনে, সাহিত্যে যদি দয়াদাক্ষিণ্যের কিছু থাকে তাহলে ভোরের আলো সাহিত্য আসর এর কর্মরত লেখকগন তাদের নিজস্ব আয় থেকে কিছু অর্থ একত্রে জমা করে তা নির্ঘাত প্রাপ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়। সাহিত্যে যদি বিমর্ষ ও মলিন চেহারার কাতর কাউকে দেখা যায় তবে তার মানসিক বিষাদকে আবিস্কার করে মলিন মুখে হাসি ফুটাতে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়ে থাকে কোনো গ্রহণযোগ্য বিনোদনের মাধ্যমে। সাহিত্যে যদি কারো শোবার জন্য এক টুকরো জায়গা ও গায়ে পড়ার জন্য এক টুকরো বস্ত্রের আবেদন পরিলক্ষিত হয় তাহলে ভোরের আলো সাহিত্য আসর কালবিলম্ব না করে সেই চাহিদা পূরণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একই সাথে ভোরের আলো সাহিত্য আসর গুণীদের কদরের অমর্যাদা দেখলে সেখানেও সাহিত্যকর্ম চালায় ও গুণী ব্যক্তিকে মর্যাদা দিতে সম্মাননা স্মারক প্রদানের কর্মসূচি গ্রহন করে থাকে। ভোরের আলো সাহিত্য আসর এযাবত অগনিত গুনীদের সম্মানিত করেছে তাদেরকে সংবর্ধনা দিয়ে। ভোরের আলো সাহিত্য আসরের কোনো ফান্ড নেই তবু এসব চলে অবলীলায়। তবে এসব কার্যক্রমে তাৎক্ষনিক প্রয়োজনে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের দায়িত্বশীলগণ নিজেরা বহন করে থাকে। ভোরের আলো সাহিত্য আসর প্রতি ১০০ সপ্তাহ এর মাথায় একটি মিলনমেলা করে থাকে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে নানাবিধ সমস্যায় সেই ১৩০০তম সভাটি হাঁকডাক করে করা যায়নি। তার আগে ৪০০তম,৫০০তম,৮০০তম,১২০০তম সভাসমূহ হাঁক ডাকেই করা হয়েছে। কিন্তু এবার যা ২০২৬ সালে ১৩০০ তম সভাটি করার প্রয়োজন ছিল তা কিন্তু হয়নি। কারণ তারপরের দিনই ঈদ-উল-ফিতর ছিল। ঈদ-উল-ফিতরের কদিন পরই গনহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস অর্থাৎ ২৬মার্চ সমাগত। তার একটি প্রস্তুতও দরকার। মার্চের পরের মাসই হল এপ্রিল মাস। এ এপ্রিল মাসেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভোরের আলো সাহিত্য আসর। তারও একটি প্রস্তুতি নিতে হয় দায়িত্বশীলদের। যেহেতু আসরের কোনো ফান্ড নেই সেহেতু তা নিজেরাই আর্থিক কোরবানী দিয়ে পালন করে থাকে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এত এত ব্যস্ততার মাঝে গত শুক্রবার ২০মার্চ নিরবে-নিভৃতে চলে গেল ভোরের আলো সাহিত্য আসরের ১৩০০তম সভাটি। নিরবে হওয়াটাই ছিল সময়ের চাপে পড়ে।
তবে নিরবে তা চলে গেলেও কাকতালীয়ভাবে সাহিত্য আসরের সভাপতি "অথচ এবং ইত্যাদি" বইয়ের লেখক বিশিষ্ট ব্যাংকার মোতাহের হোসেন এতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি সাংসারিক কাজের প্রয়োজনে কিশোরগঞ্জ জেলাধীন অষ্টগ্রামের বাড়িতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে তার আগে বেশকটি সাহিত্য সভায় অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু ১৩০০তম সভাটি তিনি সানন্দে করতে পেরেছেন। তারই সভাপতিত্বে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ১৩০০তম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ রেজাউল হাবিব রেজা। এতে সাহিত্য আসরের প্রধান উপদেষ্টা বিআরডিবির উপপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ভূইয়া প্রথমে না আসতে পারলেও তিনি সম্যক খবর রাখছিলেন। সভাশেষে নিজে উপস্থিত আসরের সার্বিক খবর নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সহসভাপতি বিশিষ্ট ব্যাংকার বিমল চন্দ্র ভৌমিক। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর দূরাবস্থা তুলে ধরছিলেন। পাশাপাশি আসরকে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান। কিশোরগঞ্জে নন্দিত এক শিল্পী যাকে এসকে রাসেল হিসেবে সবাই চেনেন। তার গানের লহরীতে এক প্রকার উদ্দীপনা কাজ করে। হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে কোথায়ও দূর অঙ্গনে। "রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ" গানটিতে তিনি বাজীমাত করলেন শব্দে শব্দে। আর তম্ময় আনলেন প্রতিটি ছত্রে। যেহেতু ১৩০০ তম সাহিত্য আসরটি রমজান মাসের ভেতরে পড়েছে সেহেতু আত্মসংযম নিয়ে কথা বলেন মাওলানা মুফতি শাহ মকবুল হোসাইন। আল-কুরআনের দলিলে তিনি সিয়াম সাধনার শিক্ষা হিসেবে ধৈর্য,আত্মসংযম তথা আত্মশুদ্ধির বিষয় সমূহ সংক্ষিপ্ত অথচ বিস্তৃত উপলব্দির ধারনা দিয়ে সুন্দর বক্তৃতা করেন। পাশাপাশি সদ্য ৩চিল্লা দিয়ে আসা ভোরের আলো সাহিত্য আসরের যুগ্মসম্পাদক মো: শাহীন মিয়া আত্মশুদ্ধিমূলক দ্বীনী দাওয়াতের গুরুত্ব তুলে ধরেন তার বক্তৃতায়। এসব নিত্য-নতুন আলোচকদের মূল্যায়ণে ১৩০০ তম আসরটি নিরবে চলে যাবার কথা বলা হলেও এ আসরটি ছিল মানুষ গড়ার এক বিশেষ ক্ষণ। আলোচক হিসেবে পিছিয়ে ছিলনা এসব আসর করার স্থানদাতা ডাঃ মোঃ হিরা মিয়া। তিনিও এ পরিবেশের জন্য নতুন আলোচক। হিরা মিয়া ভোরের আলো সাহিত্য আসরের একজন উপদেষ্টা এবং এ সাহিত্য সংগঠনের একজন দিক নির্দেশক। এ আসরে আরেকজন শিল্পী নতুন এসে সবাইকে অবাক করে দিয়ে চমৎকার গান গাইলেন যা সবার মন কেড়ে নিতে সক্ষম । ওনার নাম রতন ভৌমিক। তাছাড়া ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম গাইলেন "সব নিয়ে নে রে মাওলা সব নিয়ে নে"। এ গানে ছিল নানাবিধ আবেগ ও আবেদন। মাজহারুল ইসলাম তার রচয়িতার নামটিও উল্লেখ করেন গুরুত্বের সাথে। একজন শিল্পী তখনি তার গানের পরিপূর্ণ স্বীকৃতি পায় যখন গানের রচয়িতাকেও তুলে ধরতে সক্ষম হন। কন্ঠশিল্পী মাজহারুল ইসলাম সেই কাজটুকুই করেছিলেন। সবার সাথে তাল যুগিয়েছিলেন নারী নেত্রী আনোয়ারা বেগম। তিনি ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। তাই তিনি কোনো সংগঠনে তার সাংস্কৃতিক ধারার ছোঁয়া পেলে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। আর তাই তিনি শিল্পীদের সব গানে ঠোঁট মিলিয়ে গুনগুন করেন এবং দু'হাতে তালি বাজান। ১৩০০ তম আসরে শুধু সবাই উপস্থাপক ছিলেন না, ছিলেন একজন নিরব শ্রোতাও। যিনি গান ও আলোচনা মত্ত হয়ে শুনেন এবং তম্ময় হয়ে ঘুমের কোলে ঢলে পড়েন। বার বার জাগ্রত হলেও শিল্পীদের গানের লহরী তাকে নিয়ে যায় তন্দ্রায়। এ দৃশ্যটি খুব উপভোগ করেন অন্যরা। আর শ্রোতা হিসেবে কেউনা কেউ থাকতে হয়। সেই আলোচিত শ্রোতার নাম মির্জা মাহবুবা বেগ মৌসুমী। ভোরের আলো সাহিত্য আসরের নারী অংশের সাধারণ সম্পাদক।
সবশেষে এ আসরের সভাপতি কবি মোতাহের হোসেন সবার আলোচনা ও কবিতা আবৃত্তির বিচারবিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি ১৩০০তম সভাটিকে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে কল্যামুখী করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করার প্রয়োজন অনুভব করেন। দিনটিও ছিল খুব বরকতময় শুক্রবার। একদিকে রোজার শেষ দিন, অপরদিকে "জুমাতুল বিদাহ" বলে এদিনের বিশেষত্বের বেশ গুরুত্ব পায়। সভাপতি ধারনা করেন এ মূহুর্তের প্রার্থনা কবুল হতে পারে। তাই তিনি মাওলানা মুফতি মকবুল হোসাইনকে অনুরোধ করেন দু'আর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করতে। সভাপতির নির্দেশে মাও: মকবুল হোসাইন তাই করলেন। তিনি অনুষ্ঠানের সবাইকে নিয়ে বিশ্বের মুুসলিমদের উপর নির্যাতনের অবসান হওয়ার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দু'আ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।
Copyright © 2026 Vorer Alo BD. All rights reserved.