রেজাউল হাবিব রেজাঃ
ভোরের আলো সাহিত্য আসরের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবি মহিউদ্দিন আহমেদের ৫১তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত হয়। এতে শহীদকে যথার্থ স্বীকৃতির দাবি, আলোচনা-পর্যালোচনা ও দুআ অনুষ্ঠানের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
গতকাল ১০নভেম্ব,বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ ঘটিকায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা সংলগ্ন ভোরের আলো সাহিত্য আসর কার্যালয়ে এ শাহাদত বার্ষিকীটি পালিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ৭১এর বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ এবি মহিউদ্দিনের জামাতা শওকত উদ্দিন ভুইয়া।
ভোরের আলোর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ রেজাউল হাবিব রেজার সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ এবি মহিউদ্দিনের ছাত্র কিশোরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মোঃ ছিদ্দিক হোসাইন।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট তথ্যসংগ্রাহক আমিনুল হক সাদী। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গণের ইতিহাস সংগ্রহকারী কলমযোদ্ধা শেখ আবুল মুনসুর লূনু।
তাছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম মোঃ শাহীন মিয়া, ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সহকারী প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সংগঠনের সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পী মোঃ জহিরুল হাসান রুবেল। সংগঠনের নারূ অংশের সাবেক সাধারণ সম্পাদিকা মির্জা মাহবুবা বেগ মৌসুমী ও মহররম আলী।
শাহাদত বার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ডাঃ ছিদ্দিক হোসাইন বলেন ঃ শহীদ এবি মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন আমাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক মহান আদর্শ। তার বলিষ্ঠতা ও তেজস্বীতা ছিল পাহাড় সমান। আকারে আকৃতিতেও চিলেন বলিষ্ঠ। আমরা স্যারের অনুপ্রেরণায় মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।
বিশেষ বক্তা হিসেবে আমিনুল হক সাদী বলেনঃ যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করছি তাদেরকে স্মরণ না করা দুঃখজনক ঘটনা।
একান্ন বছর পর ওনার স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে সীমিত পর্যায়ে। কিন্তু আজ ওনাকে স্মরণ করার দরকার ছিলো কিশোরগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের স্মরণ করার দরকার ছিলো সাবেক একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক হিসেবে। কিন্তু আজ এমন সীমিত পর্যায়ের আলোচনা খুবিই ব্যাতা দপয়।
৭১এর রণাঙ্গণের মাঠে তথ্যসংগ্রহকারী শেখ আবুল মুনসুর লনু বলেন, আজ ওনাকে সবাই ভুলে যাচ্ছি। অথচ আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে চষে বেড়িয়েছি নানা তথ্য সংগ্রহের জন্য। কেননা তখন ভাবতাম ইতিহাস লিপিবদ্ধ না থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম ভুল ইতিহাসের সম্মূখিন হবে। আজ তাই দেখা যাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম শাহীন মিয়া বলেনঃ আমার বাবা মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ আমাদেরকে শিখিয়েছেন। আমরা তার িতিহাস সংরক্ষণ করার জন্য বদ্ধ পরিকর। আমাদেরকে আরো বড় পরিসরে এসব শহীদদেরকে স্মরণ করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লাললনকারী বর্তমান প্রজন্মের শিল্পী জহিরুল হাসান রুবেল বলেনঃ আজ এই দিনে আমরা সশ্রদ্ধ চিত্তে ওনাদেরকে স্মরণ করি। গানের লহরীতেও আমরা তাদেরকে নিয়ে ঝংকার তুলি, কিন্তু প্রকৃত চেতনা একন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর তা না হলে আজ কেন এমন একজন দল ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে স্মরণ করা হয় না? এসব আজ আমাদের মনে প্রশ্ন হয়ে ঘুরছে।
অনুষ্ঠান শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শওকত উদ্দিন ভুইয়া বলেনঃ আমার শ্বশুর একজন তেজস্বী মানুষ ছিলেন। অন্যায়ের সাথে কারো আপোষ করতেননা। আপনারা কেউ হয়তো আজকের এ ক্ষুদ্র আয়োজনের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু আমি বলবো এবি মহিউদ্দিন আহমেদ কোনো সংগঠনের একক সম্পদ নয়। তিনি সবার সম্পদ। তাই সবাই আয়েজন করতে পারপন এ শহীদকে নিয়ে। তিনি শুধু পারিবারিক সম্পদ ছিলেন না। বলতে পারেন ওনার চেতনা রক্ষায় তার প্রজন্মদের ভুমিকা নিয়ে। এটা প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু এ পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়াও দরকার। প্রজন্মদের মধ্যে সবচে বেশি সোচ্চার ছিলেন শহীদের কন্যা ওয়াহিদা আহমেদ। যার স্বামী কদিন পূর্বে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাই তিনিসহ পরিবারের সবাই শোকাহত। তাছাড়া ১৯৭১ সনে যখন যুদ্ধ বাঁধে তখন ওই ওয়াহিদা আহমেদ শিশু ছিলো। তারা তার বাবার তথ্যগত ইতিহাস জানতে পারেনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মামলার সুবাদে সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এখন জানার সুযোগ হচ্ছে। যে সংগঠনের আদর্শের জন্য তিনি আলবদর জহিরুল হক ও শহীদুল্লাহ ফকিরদের ক্ষোভানলে পড়েছিলেন সেই আওয়ামীলীগ ওনাদেরকে স্মরণ করেনা। সেটাও আমাদেরকে বাবতে হবে। আমাদের চেতনা গিয়ে কোথায় দাঁড়িয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। আমরা ইতিহাস জন্মদাতাকে বাদ দিয়ে পরবর্তীতে ইতিহাস বিকৃতকারীদেরকে বিশেষভাবে স্মরণ করে থাকি। কিশোরগঞ্জের সত্য ইতিহাসের রচয়িতা চিলেন আমার শ্বশুর শহীদ এবি মহিউদ্দিন আহমেদ। আমরা ওনা সহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পরিশেষে ধন্যবাদ জানাই ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রতিষ্টাতা ও এ অনুষ্টানের সঞ্চালক তথা যুদ্ধাপরাধ আন্দেলনের সফল নেতৃত্ব মোঃ রেজাউল হাবিব রেজাকে।
সভাশেষে শহীদের স্মরণে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নাজাত পরিচালনা করেন শহূদের জামাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভুইয়া।
কিশোরগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবি মহিউদ্দিন আহমেদের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত












Leave a Reply