স্মৃতির অবগাহনে সাইকেলে চড়ে বাংলাদেশের ৬৪জেলা দেখার পর্যটক অলিসাব ওরফে স্বপ্নরাজের নানা বিষয় ভোরের আলোর সাথে

ভোরের আলোবিডি ডেস্ক:

চলতি বছরের আগস্টের শেষের দিকে ২৮আগস্টের কথা। ভোরের আলো বিডি অনলাইন পত্রিকা অফিসে এসেছিলেন তরুন পর্যটক অলিসাব ওরফে স্বপ্নরাজ।  ভোরের আলো বিডিডেস্ক এর পক্ষ হতে এ পর্যটকের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন পোর্টালের সম্পাদক রেজাউল হাবিব রেজা।

সাক্ষাতকারের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন জ্ঞানতীর্থ গ্রন্থাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ। তাদের মধ্যস্থতায় ভোরের আলোতে এসে হাজির হন স্বপ্ন রাজ। এ তরুণের লক্ষ্য সাইকেলে চড়ে বাংলাদেশের ৬৪জেলা সে ঘুরবে। তথ্য সংগ্রহও করবে এবং জাতিকে সে চমৎকার একটি বাংলাদেশ ভ্রমণের কাহিনী উপহার দেবে।  রোমন্থণ করবে মানুষের নানা আচরণ,ভাব-ভঙ্গি ও সংস্কৃতি। । রচনা করবে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। এতে তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন জ্ঞান তীর্থ গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আলমগীর অলিক।  সকাল ৯টার মধ্যেই কিশোরগঞ্জের সদর মডেল থানার পাশে ভোর আলোর অফসে। মাথায় হেলমেট, কিছু কাপড়-চোপড় নিয়ে বহন করা ব্যাগ, সাথে থাকে তার প্রাণের সাইকেল, হাতে থাকা নোটবুক ও কলম।  চলার উদ্দাম গতি, পর্যটকবান্ধব লোকদের নিয়ে রাত্রি যাপন, কারো সাক্ষাত বা অতিথি পরায়ণদের কাউকে না পেলে গাছ তলায় থেকে যাবার এক সংগ্রামী সাধকের মতো এক পরম তরুণকেই সেদিন আমরা পেয়েছিলাম। পর্যটক হিসেবে সেদিন তার এটি ছিল ৮দিনের যাত্রা। তার আগে বেশ কটি জেলা পরিদর্শন করে সে কিশোরগঞ্জে এসেছে। দিনটি ছিল ভোরের আলো অনলাইন পোর্টালের আরেকটি অংশ যা ভোরের আলো সাহিত্য আসর নামে পরিচিত। এ সাহিত্য আসরটি ২৩বছর যাবত ছড়া, কবিতা,গান ও উন্মুক্ত আলোচনা করে আসছিলো। সাহিত্যের অনুষ্ঠান চলাকালে অলিসাব ওরফে স্বপ্নরাজের এখানে আগমন ঘটে। নতুন এক আগুন্তুকের আগমনে আমরা অপ্রস্তুত ছিলাম। সাথে যখন জ্ঞান তীর্থ গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আলমগীর অলিককে দেখলাম তখন আমাদের বুঝার বাকী রইলো না যে আলমগীর অলিক কাউকে এনে একটি নতুন চমক দেখাচ্ছে। অলিকের এমন চমক নতুন না। অতীতে আরও বহু নতুন আগুন্তুক নিয়ে নতুন নতুন চমক দেখিয়ে আসছে। আমাদের ভাবনার পরিচয় পেলাম যখন তিনি আগন্তুককে একজন পর্যটক হিসেবে পরিচয় পেলাম। এ তরুণ পর্যটকের কাহিনী আরো বেশকটি জাতীয় পত্রিকায় বিবরণ এসেছে। ভ্রমণপিপাসুরা অনেকেই তার নাম জানে। বিশেষ করে তরুণরা স্বপ্নরাজকে একবক্যে চিনে। আমরা চলমান অনুষ্ঠানে বসতে দিলাম। এরই মাঝে তার আদ্যোপান্ত জেনে নিলাম তার বক্তৃতার পালায়।

আমরা কুশি হলাম এ জন্য যে, তার পরিচয় পাবার পর যত কথা আলোচনা হয়েছে সবই তরুণ পর্যটক অলিসাব ওরফে স্বপ্নরাজকেই গিরে। ফলে স্বপ্নরাজও অভিভূত হয় সকলের দেয়া আলোচনায়। ভাসতে থাকে আনন্দ উচ্ছ্বল ঘন আলাপচারিতায়। এতে সন্তুষ্ট হয় এ তরুণ পর্যটক।  নিজ তেকে স্বপ্নরাজ বলে ওঠেন যে, “আমার মনে তাকবে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের কথা। মনে থাকবে আমাকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করার মতো সুন্দর সুন্দর বাক্যগুলো। তাকে উৎসর্গ করে এখানে গান গাওয়া হয় হয়।”

অনেকেই কবিতাও উৎসর্গ করে কবিতা আবৃত্তি করে। সীমীত জায়গায় বৃহৎ পরিসরের ধাবনাগুলো পর্যটকের মনে দাগ কেটেছে বলে  জানায়। তার ব্রমণ জীবনের কাহিনীতে বিশদভাবে বর্নায় আনবেন বলে জানান এ স্বপ্নরাজ। সেদিন ভোরের আলোর সাহিত্য আসরটি ছিল ১৩২৭তম। এটি দীর্ঘ পথ চলার ২৩বছরের ফসল। এদিন সাহিত্য আসের সভাপতিত্ব করেছিলেন কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক মো: মোতাহের হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন ভোরের আলোর প্রতিষ্ঠাতা বি ও সাংবাদিক মোঃ রেজাউল হাবিব রেজা। গানে গানে স্বপ্নরাজকে উজ্জীবিত করে শিল্পী এসকে রাজু,কচিমুখ ফাল্গুনী রানী সরকার ও মৌটুসী।উৎসর্গ করে গান গায় ক্ষুদে শিল্পী লিজা আক্তারও।উন্মুক্ত আলোচনায় পর্যটক হওয়ার কার্যক্রমকে এক নিপূণ ও আকর্ষণীয় শিল্প বলে আখ্যা দেন সাহিত্য আসরের সুবক্তা সাদেকুজ্জামান সোহাগ। সহসভাপতি ব্যাংকার বিমল চন্দ্র ভৌমিকও তার বক্তৃতায় ভ্রমণ পিপাসুদের নিয়ে অনুরূপ মন্তব্য করেন।

সবচে প্রাণচাঞ্চল্যতা সৃষ্টি হয় ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আরিয়ান ফারসীর আবেগময়ী কবিতায়। যার কবিতায় ওঠে আসে এ সমাজের যত অসঙ্গতি। বীর মুক্তিযোদ্ধা এ মতিন সেদিন ভ্রমণের প্রতিকূলতাকে ৭১’র যুদ্ধের মতো আরেক যুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেন। সাদিয়া জাহান রেজা ও নাদিয়া জাহান রেজাও এ ভ্রমণকে একটি ঐতিহাসিক ডকুমেন্ট বলে মন্তব্য করেন।একই সাথে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাবিনা ইয়াসমিন মমতা কবিতা দিয়ে তরুণপর্যটক অলিসাব ওরফে স্বপ্নরাজকে স্বাগত জানান। সবশেষে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের নারী অংশের সভানেত্রী সুবর্না দেবনাথ এ পর্যটকের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্টানের এক পর্যায়ে ুপস্থিত হন সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান জরার স্থানদাতা ডাঃ হিরা মিয়া। তিনিও এ পর্যটকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি কবি মোতাহের হোসেন আবেগময়ী বক্তব্য রেখে স্বপ্নরাজকে তার সাফল্য কামনা করেন একই সাথে পর্যটকের ভ্রমণকালে মহান স্রষ্টার কাছে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে পর্যটক স্বপ্নরাজের কাছে তাৎক্ষনিক ভোরের আলোরকৃত ভ্রমণকারী সম্পকর্কিত মন্তব্য চাওয়া হয়। এতে তিনি বলেন আপনারা আামাকে যে উৎসাহ দিয়েছেন তা আমার চরজীবন মনে থাকবে।আমি আমার ভ্রমণকাহিনীতে তা উল্লেখ করবো।

শেষে সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *