কিশোরগঞ্জে ভোরের আলো ও কইঐসকের যৌথ উদ্যোগে গীতিকার শহীদ পাগলার সংবর্ধনা

ভোরের আলো ডেস্কঃ

কিশোরগঞ্জে ভোরের আলো ও কইঐসকের যৌথ উদ্যোগে গীতিকার শহীদ পাগলার সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত।

আজ ৩০অক্টোবর (২০২৬) শুক্রবার সকাল ৯টায় থানা মার্কেটস্থ মডার্ণ ডেন্টাল চেম্বারে আঞ্চলিক ভাষার গীতিকার,কবি, ছড়াকার ও পুঁথিকার, কিশোরগঞ্জের সেরা বয়াতী আবদুস শহীদকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়।
গানে গানে আন্দোলিত করে,কবিতার ছন্দে নানা বিশেষণে সম্বোধন করে কবিতা চয়নের মাধ্যমে সাহিত্য আসরকে প্রণবন্ত করে তুলেন কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পী ও কবিরা।
আলোচকরা আলোচনা করেন শহীদ বয়াতীর সৃষ্টিশীল নানা ভাব-ভঙ্গিমার সাহিত্য রস নিয়ে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অথচ এবং ইত্যাদি বইয়ের লেখক কবি,ব্যাংকার মো. মোতাহার হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভোরের আলোর সাহিত্য আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, ৭১’এর রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা,বহু সংগঠনের অভিভাবক কবি ও অ্যাডভোকেট মো: নিজাম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন করিমগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান(সাবেক) অধ্যাপক শাহজাহান শাজু।
সাহিত্য আসরের প্রতিষ্ঠাতা মো: মোঃরেজাউল হাবিব রেজা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানটি আড়াই ঘন্টা চলমান ছিল।
গানে, আলোচনায় ও কবিতায় অন্যান্যদের সক্রিয় ছিলেন ভোরের আলো সাহিত্য আসর এর সহসভাপতি, বিশিষ্ট ব্যাংকার বিমল চন্দ্র ভৌমিক, কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি ও ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সাধারণ সম্পাদক মইঐসকের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক আমিনুল হক সাদী, সাহিত্য আসরের প্রধান সমন্বয়ক শহীদ লেফটেন্যান্ট আশফাকুস সামাদ বীর উত্তম স্মৃতি গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা হাজী আবু সাঈদ, ভোরের আলোর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, কবি ও ছড়াকার আরিয়ান ফারসী, সাহিত্য আসরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কন্ঠশিল্পী মাজহারুল ইসলাম, নারী অংশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফুটবলার রাহীমা আক্তার, ভোরের আলোর নিয়মিত সদস্য দেশ সেরা কন্ঠশিল্পী এসকে রাজু, কিশোরগঞ্জের অন্যতম ছড়াকার মলং আলীমূর রাজী (রাজীব), সুমিষ্ট কন্ঠশিিল্পী মলং রুবাইয়া আক্তার (ঊর্মি),বিশিষ্ট আলোচক, কবি ও ছড়াকার মো: সাদেকুজ্জামান সোহাগ, চর্চারত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন (মমতা), ভোরের আলোর সদস্য শিল্পী রাখাল চন্দ্র সরকার,স্ব-ঘোষিত বিশ্বকবি মায়াবী রফিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আকলিমা বেগম, ভোরের আলোর পুরনো ক্ষুদে শিল্পী শাপলা মনি, নবাগত অতিথি মোঃ শরীফ মিয়া, সাংস্কৃতিকপ্রেমী মো: আকন্দ, শিল্পী শিউলী আক্তার, আবৃত্তিকার সাদিয়া জাহান রেজা, ক্ষুদে সঙ্গীত পরিবেশক কানন কুহেলিকা, শিল্পী জুঁই আক্তার, ফুটবলার শিউলী আক্তার, ফুটবলার নুসরাত জেরিন, ফুটবলার সাদিয়া, ফুটবলার কোহিনূর আক্তার প্রভা, ক্ষুদে শিল্পী ও আবৃত্তিকার ফাল্গুনী রানী সরকার।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বয়াতী শহীদ মিয়াকে উৎসর্গ করে শিল্পীরা গান পরিবেশন করে এবং কবিরা কবিতা আবৃত্তি করেন।
অনুষ্ঠান শেষ পর্যায়ে কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির পক্ষে আমিনুল হক সাদী ও ভোরের আলো সাহিত্য আসরের পক্ষে শিল্পী এসকে রাজু সংবর্ধিত শহীদ বয়াতীর গলায় মাল্য পড়িয়ে দেন এবং প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নিজাম উদ্দিন বয়াতীকে সম্মাননা স্মারক দিয়ে অভিনন্দিত করেন। এ সময় উপস্থিত কবি-সাহিত্যিক,সাংবাদিক ও শিল্পীরা করতালির মাধ্যমে ক্রেস্টপ্রদান কর্মসূচিকে স্বাগত জানান। সম্মাননা স্মারক উত্তর প্রধান অতিথি বলেন ভোরের আলো এভাবে গুণীজনকে সংবর্ধনা দিয়ে আসছে। গুনীজনকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য অল্পসময়ে তার বিষয়ে গান-কবিতা রচনা করা ও তা বিতরন করে অনুষ্ঠানে পরিবেশন করার কঠিন কাজে ব্রত হয়েছেন সংবর্ধনার সভার আয়োজকরা। তাই তিনি এমন কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাগণের মাধ্যমে ভোরের আলো সাহিত্য আসর ও কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির এ যাবত নানা উদ্যোগের কথা ওঠে আসে। আলোচনায় সুপারিশ করা হয় যে আরো কিছু কীর্তিমান সমাজের পড়তে পড়তে অবহেলায় পড়ে আছে। তাদেরকে সংবর্ধিত এই শহীদ বয়াতীর মতো সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত করে মূল্যায়ণ করা দরকার। কেহ কেহ সুপারিশ করেন আগের মতো আবার ভোরের আলোর স্মারক সংকলন প্রকাশ করার জন্য। সব আলোচনা মাথায় রেখে সভাপতি কবি মোতাহের হোসেন এগুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেন এবং সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *